হাতুড়ে ডাক্তার শুভংকর বাবু’র সার্জারীতে মৃত্যুর দিন গুনছেন

polly-doctor-shubankor.jpg

খাঁন মাহমুদ আইউব(কক্সবাজার)প্রতিনিধি।
জগতের এই সুন্দর ধরাতে বেচেঁ থাকার আকুতি সকল প্রাণীর আছে।আর বেচেঁ থাকার তাগিদে রোগ ব্যাধী সারাতে চিকিৎসকের কাছে ধরনা দেয়নি এমন মানুষ নগন্য।কিন্তু কবিরাজ,ডাক্তার,চিকিৎসক,ওঝা,ঝার-ফুঁক এই অশিক্ষিত প্রান্তিক মানুষের জীবন যাত্রায় মিশে আছে।কখনো মৃত্যু,পুঙ্গত্ব বরন করে নিরবে মিটমাট করার সত্যতা উঠে আসে নিবিড় অনুসন্ধানে।

এই জগন্য কাজে মধ্যস্থতাকারী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।কারন হিসেবে পাওয়া গেছে অস্বচেতনতা।একজন ভালো ডাক্তার কে ৩শ টাকার ফি দেয়ার ভয়ে ৮০% লোক হাতুড়ে ডাক্তারদের স্বরণাপন্ন হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা গরছা দিচ্ছে পর্যায়ক্রমে এটাই সরেজমিন চিত্র।এক জন বিধবা কে মাত্র দু’হাজার টাকায় হাতুড়ে ডাক্তার শুভংকর নাথ ৩ দিনে ভালো হয়ে যাবার গ্যারান্টি দিয়ে টিঊমার কেটে তিনি স্তন্য ক্যান্সারে মৃত্যুর দিন গুনছেন।

এ ছাড়াও বিগত তিন বছরের সমীক্ষায় প্রতি ৬ মাসে এক জন রোগীর মৃত্যু ঘটেছে এদের হাতে।সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে অনুসন্ধানে এসে উপহার ভর্তি হয়ে ফিরে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে কিছু ফার্মাসিস্টদের মতে।

টেকনাফ পৌর শহরে অনুসন্ধানে খোজঁ পাওয়া গেলো ডাক্তার নামধারী অপচিকিৎসক কসাই শুভংকর দেব নাথ বাবু (২৮)। স্থানীয়দের মতে,বহিরাগত হলেও ছোট বেলা থেকে বেড়ে উঠে এই এলাকায়।টেকনাফ পল্লী ডাক্তার সমিতির সভাপতি জয় শংকর নাথ’র চেম্বারে আসা যাওয়া করতে করতেই ডাক্তার বনে গেলেন দিব্য। চিকিৎসা শাস্ত্রে কোন পড়াশোনা ছাড়া।স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকদের মতে,জয় শংকর অন্যদের মতো তার ভাইপো শুভংকর কে চিকিৎসকের সার্টিফিকেট এনে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।তবে শুভংকর দাবী করেন,নোয়াখালী থেকে তিনি (এলএমএফ) কোর্স করেছেন।কিন্তু তৎক্ষনাত ইন্সটিটিউটের নাম জানাতে পারেন নাই।এলএমএফ চিকিৎসক কিভাবে টিউমার অপারেশন করে?জানার প্রশ্ন সেটাই।

আনুসন্ধানে দেখা গেছে,টেকনাফ পৌর এলাকায় হাতুড়ে ডাক্তারদের দৌরাত্ব এতোটা বেপরোয়া,যেনো তারা নিজেদের অনেক সময় বিশেষজ্ঞ বা স্পেশাল সার্জনের চেয়ে বেশী ডাকহাক।তার ধারাবাহিকতায় তালাশের গভীরে সন্ধান পাওয়া গেলো পৌর এলাকার এক বিধবা মহিলা কে স্তন্য টিওমার অপারেশন করার দুঃসাহসিক আস্ত্রোপাচারার করে স্তন্য ক্যান্সারের মতো রোগের সৃষ্টি করে এখন দৌড়ের উপর।

সূত্র ধরে সরেজমিন রোগীর সাথে কথা বলে জানা গেলো, ডাক্তার রঞ্জিত বাবুর কাছে চিকিৎসা করতে গিয়ে হঠাৎ হাতুড়ে ডাক্তার শুভংকরের সাথে দেখা।কথার ফাকে আগবাড়িয়ে ২ হাজার টাকা চুক্তিতে রনজিত বাবুর চেম্বারে অপারেশন করে ২/৩ দিনের মধ্যে অপারেশনের জায়গা শুকিয়ে আসবে বলে আস্বাস দিলেও অবস্থা অপরিবর্তন দেখে বিষয় টি অবগত করলে হাতুড়ে ডাক্তার শুভংকর,প্রতি দিন এসে ১ টি পেনিসিলিন ইঞ্জেকশান করে ৫শ টাকা নগদান ভিত্তিতে ৪৫ দিন পর্যন্ত ধান্ধা করে নিতেন বলে আলাপে উঠে আসে।ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে,শুভংকর নাথ কোন রকম ড্রেসিং করতেন না।ফলে ইনফেকশন আরো বড় হতে থাকে।বেকায়দা দেখে সে পালিয়ে থাকে যোগাযোগ করেও সাড়া দেয়না।

অপরদিকে রোহিঙ্গা দিল বানু নামের তাদের ভাড়াটিয়া মহিলা অপর এক হাতুড়ে ডাক্তারের অপচিকিৎসায় মৃত্যুর আরো একটি বিষয় উঠে আসে।এই সব বিষয়ে ধান্ধাল শুভংকর কে ফোনে কয়েক দফা চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে গ্রাম ডাক্তার সভাপতি তার চাচা জয় শংকরের চেম্বারে বসে জয় শংকরের ছাপানো প্যাডে ব্যবস্থা পত্র দেয়ার কোন উত্তর নেই। সুশীল সমাজের অনেকের মতে এটা মোটেও কাম্য নয়। এদিকে সর্বজন মান্য টেকনাফ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে একটি সূত্রে, শুবংকর নাথ একই ভাবে অষ্টাদশী এক জন মেয়ে কে ফোড়াঁ অপারেশন করে পরবর্তিতে কক্সবাজার ৪ মাস উন্নত চিকিৎসা করে কোন রকম দূর্ঘটনা থেকে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। সবুরা বেগম (৪০)জানান বিষয়টি টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন মেডিকেল অফিসার কে জানালে,তিনি হাতুড়ে ডাক্তার শুভংকর কে ডেকে ৯ হাজার টাকা আদায় করে দেন।পরবর্তিতে একজন গাইনী ডাক্তার টেকনাফ থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরন করেন বলে জানিয়েছেন।কক্সবাজার অপারেশন শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরন করা হয়েছিলো। রোগীর পরিবারের দাবী,বর্তমানে অপারেশনের জায়গায় ছোট ছোট বিচির মতো দেখা যাচ্ছে,ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ডাক্তার আবার সার্জারীর কথা বলেছেন।কিন্তু এই পর্যন্ত ৭ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে এখন টাকার অভাবে আবার অপারেশনের কথা ভাবলেই বাচতে ইচ্ছে করে না বলে আপেক্ষ।রোগীর মা জানালেন,অর্ধেক চিকিৎসা এখনো বাকী,একজন প্রতিনিধি ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্পে শালিশের বসে সই নিয়ে শুভংকরের লিখিত ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ফেলা হয়েছিলো।বিষয়টি জয় শংকর কথার ফাকে স্বীকার করেছেন।এটা কেমন মানবতা,কেমন বিচার বলে আহ্লাদ করে কান্নায় জড়িয়ে পড়েন এবং বিধবা মেয়ের চিকিৎসার জন্য তিনি সমাজের বিত্তবানদের নিকট আবেদন জানান।

অনুসন্ধানে পৌর শহরে বিগত ৩ বছরে জয়শংকর সহ বিভিন্ন হাতুড়ে ডাক্তারদের হাতে গড়ে প্রতি ৬ মাসে একজন রোগীর মৃত্যু ঘটেছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সব বিষয় কঠোর ভাবে নজরদারী করা প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসার নামে ডাঃ মুখোশে আর কতো প্রানের নিধন ঘটলে সিভিল সার্জন ও জন স্বাস্থ্য প্রশাসনের চেতনা ফিরবে।

তাই মৃত্যু যাত্রী বিধবা সবুরা ও এলাকার সুশীল সমাজ স্থানীয় এমপি আব্দুর রহমান বদি’র ও উপজেলা প্রশাসনে কে তদন্ত পূর্বক হাতুড়ে ডাক্তার শুভংকর সহ অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top