আবুধাবিতে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর বৈঠক : বাংলাদেশিদের জন্যে শ্রমবাজার উন্মুক্তে ইতিবাচক আমিরাত

nurul_islam_bsc_with_amirati_minister_47311_1494943684.jpg

: বাংলাদেশি কর্মীদের জন্যে শ্রমবাজার আরও উন্মুক্ত করতে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মঙ্গলবার আবুধাবিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রী সাকর গোবাশ সাঈদ গোবাশের এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই মনোভাব ব্যক্ত করা হয়।

আমিরাতের এই মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে আমিরাতে আরও অধিক সংখ্যক কর্মী প্রেরণ এবং কর্মীদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকের শুরুতে উভয় দেশের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, মুসলিম প্রধান দেশ, একই ধর্মীয় মূল্যবোধের অনুভূতি এবং পারস্পরিক অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা বজায় রাখার বিষয়ে তারা আলোচনা করেন।

বৈঠকে নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিবাসন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে একযোগে কাজ করছে। উভয় দেশ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামসমূহে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে সুষ্ঠু ও নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের বিভিন্ন ইস্যুতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে। এতে কর্মীদের স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষা হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিররাতের মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রণালয়ের বিদেশি কর্মীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জারিকৃত সর্বশেষ ডিক্রিসমূহের উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে আরও অধিক সংখ্যক দক্ষ কর্মী নেয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান এবং বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে আমিরাতের মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ জারিকৃত ডিক্রিসমূহ অন্যান্য বিদেশি কর্মীদের মতো বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

তিনি বলেন, কর্মীরা নিয়োগকর্তা কর্তৃক ভিসাপ্রাপ্তির আগে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগকৃতব্য কর্মীর স্বাক্ষরসহ স্ট্যান্ডার্ড এমপ্লয়মেন্ট কন্ট্রাক্ট-এর আওতায় তাদের সকল সুযোগ-সুবিধা পবেন।

আমিরাতের এই মন্ত্রী আরও বলেন, আমিরাতে তিন বছর বা তার বেশি সময় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা তাদের নিয়োকর্তা পরিবর্তন এবং উভয়পক্ষ পারস্পরিক নির্ধারিত নোটিশ পিরিয়ডে নোটিশ প্রদান করে চুক্তিপত্র বাতিল করতে পারবে এবং কর্মীরা তাদের সুবিধা ও পছন্দ মতো কাজের সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রেও এ সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

সাকর গোবাশ সাঈদ বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা ও সেদেশে আরও কর্মী প্রেরণে বাংলাদেশের সক্ষমতার বিষয়ে তারা অত্যন্ত ইতিবাচক। বিষয়টি তাদের সক্রিয় বিবেচনা রয়েছে এবং তাদের অভ্যন্তরীণ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনাক্রমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার আরও উন্মুক্তকরণে তাদের প্রচষ্টো অব্যাহত রয়েছে।

শিগগিরই উভয় দেশের মধ্যে জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির নির্ধারিত সভা ঢাকায় অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তার মন্ত্রণালয় কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের আমন্ত্রণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে তার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এসময় বাংলাদেশের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের প্রশংসা করেন তিনি। বাংলাদেশি কর্মীরা দক্ষতা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন বলেও জানান আমিরাতের এই মন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৩ লাখ অধিক কর্মীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২৩ হাজারের অধিক নারী কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণে লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইতিমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেদেশে কর্মী প্রেরণে ইতিবাচক সাড়াও পাওয়া গেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top