প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশিদের জন্য আমিরাতের শ্রমবাজার খোলার আশাবাদ

nurul-islam-bsc_47208_1494848395.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার খোলার ব্যাপারে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছে।

সৌদি আরবের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে বাংলাদেশের একটি কূটনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই শ্রমবাজার বন্ধ।

২০২০ সালে ‘ওয়ার্ল্ড এক্সপো’র স্থান নির্বাচনী ভোটের প্রথম দফায় বাংলাদেশ দুবাইয়ের পক্ষে ভোট না দেয়ায় এই শ্রমবাজার ব্যাপকহারে খুলছে না। বাংলাদেশ তখন রাশিয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছিল।

অবশ্য বাংলাদেশ দ্রুত সেই ভুল সংশোধন করে। দ্বিতীয় দফা দুবাইয়ের পক্ষেই ভোট দেয়। কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে যায়। বাংলাদেশ থেকে অবশ্য সীমিত সংখ্যক কর্মী আরব আমিরাতে যাচ্ছেন।

চূড়ান্ত ভোটে দুবাই ‘ওয়ার্ল্ড এক্সপো’ আয়োজনের জন্য নির্বাচিত হয়। এখন চলছে তার প্রস্তুতির কর্মযজ্ঞ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার ব্যাপকহারে খোলার জন্যে ঐকান্তিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই চেষ্টার অংশ হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গেছেন। সোমবার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। বর্তমানে দেশটিতে সীমিত ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্মী যাচ্ছেন।

সফরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সকল সেক্টরে কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সাত সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ইতিমধ্যে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত ও সম্প্রসারণ হয়েছে এবং বর্তমানে সে সব দেশে প্রতিদিনই ব্যাপক সংখ্যক দক্ষ কর্মী গমন করছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আরও বেশি সংখক কর্মী নিয়োগ ও বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের বিষয়ে দু’দেশে উচ্চ পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী সে দেশের মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশনমন্ত্রী সাকর গোবাশ সাইদ গোবাশ এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. জেনারেল শেখ সাইফ বিন যাইদ আল নাহইয়ানের সঙ্গে কর্মী প্রেরণসহ দু’দেশের বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

বৈঠককালে মন্ত্রী দু’দেশের মধ্যে কর্মীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৩ লাখের অধিক বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৮৫ জন নারী কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইতিমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেদেশে কর্মী প্রেরণে ইতিবাচক সাড়াও পাওয়া গেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবিষয়ক উপদেষ্টা অ্যালেক্স জালামির সঙ্গে গত বছরের আগস্টে শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত কলম্বো প্রসেসের সভায় সাইড মিটিং এবং বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নবম জিএফএমডি সম্মেলন চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশনমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।

২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে অ্যালেক্স জালামিকে বাংলাদেশে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং তিনি বাংলাদেশে এসে কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদানে মানদণ্ড ও সক্ষমতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া, ডাটাবেজ ও শ্রম ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাইজেশন সিস্টেম প্রভৃতি সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত সকল সেক্টরে কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সে দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের মিশন প্রধানসহ শ্রম কল্যাণ উইংয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে সকল সেক্টরে কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণ ও অধিকতর সম্প্রারণের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রীর সঙ্গে সফরে প্রতিনিধিদলে রয়েছেন- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম শামছুন নাহার, যুগ্ম সচিব মো. মিজানুর রহমান, যুগ্ম সচিব ও মন্ত্রীর একান্ত সচিব মু. মোহসিন চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও দফতর/সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে আগামী ২১ মে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top